নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের আগে মন্ত্রিসভা গোছাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নাম, ব্রিটেনের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নাম। আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখার আগে তিনি বর্তমানে তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নামের এই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়াটি কেবল নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ব্রিটেনের গত চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বার্নাম দেশবাসীকে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। তিনি এমন একটি সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন যা ব্রিটেনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে সক্ষম হবে। দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণশীল দলের শাসনের পর জনগণের মধ্যে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, বার্নামের ওপর তার চাপ ও দায়িত্ব—উভয়ই এখন অনেক বেশি।
মন্ত্রিসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বার্নাম বেশ কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি দলের প্রবীণ অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মেধাবী রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা করছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বার্নামের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী টিম তৈরি করা, যারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ করে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে চাইছেন।
এদিকে, সোমবারের শপথ গ্রহণকে ঘিরে লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বার্নাম তার ভাষণে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তার সরকার হবে জনবান্ধব এবং জবাবদিহিতামূলক। ব্রিটিশ রাজনীতিতে গত ৪০ বছরে কোনো সরকার এমন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি করেনি, যা বার্নাম তার নির্বাচনি ইশতেহারে তুলে ধরেছেন। এর ফলে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি ব্যবসায়িক মহল এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররাও বার্নামের নতুন নীতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বার্নামের এই যাত্রা সহজ হবে না। ব্রেক্সিট-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানো অত্যন্ত দুরূহ কাজ। তবুও, বার্নাম যেভাবে তার মন্ত্রিসভা সাজাচ্ছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে তিনি দ্রুততার সাথে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। সোমবারের আনুষ্ঠানিকতার পর থেকেই ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে, লেবার পার্টির এই নতুন নেতৃত্ব কতটা সফলভাবে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন তার দিকে।
