ওপেনএআই-এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে এল চীনের নতুন এআই মডেল ‘কিমি কে৩’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। বেইজিংভিত্তিক এআই স্টার্টআপ ‘মুনশট এআই’ সম্প্রতি তাদের সর্বাধুনিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3) উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই নতুন মডেলটি ওপেনএআই-এর জিপিটি-৪ বা অ্যানথ্রোপিকের ক্লড-এর মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এআই মডেলগুলোর সাথে সরাসরি পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। প্রযুক্তি বিশ্বে যখন এআই নিয়ে বড় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, তখন চীনের এই উদ্যোগটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুনশট এআই-এর ভাষ্যমতে, কিমি কে৩ মডেলটি তৈরি করার সময় এর যুক্তিবোধ, কোডিং সক্ষমতা এবং দীর্ঘ তথ্যের বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান এআই বাজারে বড় ধরনের টেক্সট বা দীর্ঘ নথিপত্র পড়ার ক্ষমতার প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। মুনশট এআই দাবি করছে, তাদের এই মডেলটি ব্যবহারকারীদের আরও সূক্ষ্ম এবং নির্ভুল ফলাফল প্রদান করতে সক্ষম। এটি কেবল সাধারণ কথোপকথন নয়, বরং জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং সৃজনশীল লেখালেখির ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
চীনের এআই উন্নয়নের এই অগ্রগতি মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। মুনশট এআই-এর এই নতুন সংযোজন প্রমাণ করে যে, নিজস্ব ডেটাসেট এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর পিছিয়ে নেই। এর আগে কিমি চ্যাটবট ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও, কে৩ মডেলটি সরাসরি এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
তবে এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মুনশট এআই-এর জন্য সহজ হবে না। কারণ, সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টরা ক্রমাগত তাদের মডেলগুলোকে আপডেট করছে। ওপেনএআই এবং গুগল তাদের উদ্ভাবনের গতি বজায় রাখছে, ফলে কিমি কে৩-এর সাফল্য মূলত ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং এর কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়াও, ডেটা প্রাইভেসি এবং নৈতিক এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের ওপর আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা নজরদারি রয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে এআই-এর একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে ‘কিমি কে৩’ একটি শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে এই মডেলটির বাণিজ্যিক প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
