ডিজিটাল আইডি প্রকল্প বাতিল করে জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসে অগ্রাধিকার অ্যান্ডি বার্নহামের
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে অ্যান্ডি বার্নহাম তার সরকারের প্রাথমিক নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করেছেন। তার প্রশাসনের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আলোচিত ডিজিটাল আইডি প্রকল্প আপাতত বাতিল করা হচ্ছে। বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় জনগণের দৈনন্দিন সংকট নিরসনই সরকারের মূল লক্ষ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বার্নহামের এই সিদ্ধান্তকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রবর্তনের বিষয়টি যুক্তরাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আর্থিক খরচের প্রশ্নটিও বারবার উঠে এসেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ এখন চরম চাপের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন কোনো ব্যয়বহুল প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প হাতে না নিয়ে সরাসরি নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বার্নহাম প্রশাসন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বার্নহামের এই সাহসী পদক্ষেপটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে জনকল্যাণকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। এখন ক্ষমতায় বসার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রথমেই সরকারি খরচে কাটছাঁট এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিলের দিকে ঝুঁকছেন তিনি। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছেছে যে, তার সরকার বিলাসিতা নয় বরং প্রয়োজনে বিশ্বাসী।
তবে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। বিরোধী দলগুলো ডিজিটাল আইডি বাতিলকে উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা হিসেবে দেখছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও জনসমর্থনের বিচারে বার্নহাম অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর থেকে করের বোঝা কমানোই হতে যাচ্ছে বার্নহাম সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল এজেন্ডা। সার্বিকভাবে, ব্রিটেনের আধুনিক ইতিহাসে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। বার্নহামের এই কর্মপন্থা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের চেয়ে বর্তমানে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণই লন্ডনের প্রধান নীতিনির্ধারণী লক্ষ্য।
