কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে কাঠগড়ায় মেটা, টিকটক ও এক্স-এর শীর্ষ কর্তারা

কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে কাঠগড়ায় মেটা, টিকটক ও এক্স-এর শীর্ষ কর্তারা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) এক কঠোর জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মেটা, এক্স (সাবেক টুইটার), ডিসকর্ড, টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের তলব করা হয় মূলত তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে। দীর্ঘ দিন ধরে অভিভাবক, শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের অভিযোগ ছিল যে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম এবং কন্টেন্ট কিশোর-কিশোরীদের বিষণ্নতা, সাইবার বুলিং এবং মাদকাসক্তির মতো মারাত্মক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শুনানিকালে সিনেটররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ভাষায় জানতে চান, কেন এই বিশাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার পেছনে ছুটতে গিয়ে কিশোর ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে গৌণ করে রেখেছে। মেটা’র প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ অন্যান্য নির্বাহীদের সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যে, কেন তারা ক্ষতিকর কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সিনেটররা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন যেখানে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনলাইনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হয়রানি এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তি জায়ান্টরা তাদের সিস্টেমের ত্রুটি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, তবে তারা দাবি করেছেন যে নিরাপত্তা জোরদার করতে তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।

এই শুনানির মূল লক্ষ্য ছিল কেবল জেরা করা নয়, বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পথ প্রশস্ত করা। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেটে পোস্ট করা কন্টেন্টের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে সব সময় দায়ী করা যায় না, যা ‘সেকশন ২৩০’ নামে পরিচিত আইনের একটি বিতর্কিত দিক। সিনেটররা এই আইনের সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন যাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য আরও বেশি দায়বদ্ধ থাকে।

তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দাবি, কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করলে ইন্টারনেটে বাক-স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে। টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাইভেসি সেটিংস আরও উন্নত করার জন্য নতুন টুল চালু করছে। তবুও সমালোচকরা বলছেন, এ ধরণের উদ্যোগ কেবল নামমাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই শুনানির প্রভাব শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে পারে। সরকার যদি এই কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ডিজিটাল জগতে তরুণ প্রজন্মের ঝুঁকির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি নীতি বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনগুলোতে এই কোম্পানিগুলোর ওপর কী ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক আইন পাস হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

Leave a Reply