কেয়ার হোমে মদ্যপানের অধিকার: ৮২ বছর বয়সী অনিতার আইনি লড়াইয়ে বড় জয়
বয়স্ক নিবাস বা কেয়ার হোমে প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দাবিতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে জয়ী হয়েছেন ৮২ বছর বয়সী অনিতা লে ব্রুন। এতদিন কেয়ার হোমগুলোতে অ্যালকোহল বা মদ্যপান পরিবেশনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিল আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হতো। তবে অনিতার সাহসী প্রচারণার ফলে এই নিয়ম শিথিল করার পক্ষে রায় এসেছে, যা প্রবীণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অনিতা লে ব্রুন দাবি জানিয়ে আসছিলেন যে, বয়স্ক নিবাসে থাকার মানেই এই নয় যে একজন মানুষকে তার পছন্দমতো জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হতে হবে। অধিকাংশ কেয়ার হোমে কঠোর নিয়ম থাকায় প্রবীণরা চাইলেও সামাজিক আড্ডা বা বিনোদনের অংশ হিসেবে অল্প পরিমাণে মদ্যপান করতে পারতেন না। অনিতার যুক্তি ছিল, এটি প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেয়। তার এই লড়াই মূলত প্রবীণদের আত্মমর্যাদা এবং তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতি সম্মানের দাবিতে পরিচালিত হয়েছে।
আইনি পরিবর্তনটি মূলত কেয়ার হোমগুলোকে অতিরিক্ত কোনো জটিল লাইসেন্স প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রবীণদের জন্য সীমিত পরিসরে মদ্যপান বা ‘হ্যাপি আওয়ার’ পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেয়ার হোমগুলো এখন প্রবীণদের জন্য একটি আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিতার এই সাফল্য বয়স্ক নিবাসের বাসিন্দাদের একঘেয়েমি দূর করতে এবং তাদের সামাজিকীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে প্রবীণরা কেবল সুরক্ষায় থাকছেন না, বরং নিজেদের পছন্দের স্বাধীনতাও ভোগ করতে পারছেন।
অনিতার এই প্রচারণাকে শুধু একটি আইনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এটি প্রবীণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বড় লক্ষণ। অনেকেই মনে করছেন, এই নতুন নিয়ম অন্যান্য দেশেও প্রবীণ অধিকার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। ৮২ বছর বয়সী অনিতার এই অদম্য মানসিকতা প্রমাণ করেছে যে, বয়সের সীমাবদ্ধতা যেকোনো ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের পথে বাধা হতে পারে না। বর্তমানে কেয়ার হোম কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করছে, যাতে দায়িত্বশীলতার সাথে প্রবীণরা তাদের এই অধিকার উপভোগ করতে পারেন। এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রবীণ নাগরিকদের মানসিক প্রশান্তি ও জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব।
