৯৬ বছর বয়সে গিনেস রেকর্ড: রান্নার জাদুতে ইন্টারনেটে ঝড় তুললেন আইলিন চিন
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা নতুন করে প্রমাণ করলেন ৯৬ বছর বয়সী আইলিন চিন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে বসবাসরত জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত এই প্রবীণ নারী বর্তমানে ইন্টারনেটে এক অনন্য নাম। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত নারী ফুড ইউটিউবার হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন। হাতে লেখা পুরনো রেসিপি এবং নাতির প্রযুক্তিগত সহায়তায় তিনি এখন লাখো মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
আইলিনের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা। ১৯৫০-এর দশকে জ্যামাইকার সেন্ট মেরি এলাকায় স্বামী ও নিজের প্রচেষ্টায় একটি বেকারি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে সেই ব্যবসা গুটিয়ে ফ্লোরিডায় চলে আসলেও নিজের ঐতিহ্যবাহী রান্নার স্বাদকে তিনি কখনোই হারিয়ে যেতে দেননি। জিপার লাগানো পুরনো বাসমতি চালের ব্যাগে সযত্নে রাখা হাতে লেখা রেসিপিগুলোই আজ তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। নাতি লুকাস ওংয়ের পরামর্শে তিন বছর আগে তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই দাদি-নাতির জুটির তৈরি করা ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব এবং ফেসবুক মিলিয়ে বর্তমানে তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। আইলিনের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং জ্যামাইকান উপভাষায় ‘মি রাহটিড!’ (আহা, দারুণ!) মন্তব্যের বিশেষ ভঙ্গি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। চকলেট চিপ কুকি থেকে শুরু করে জ্যামাইকার ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির নিখুঁত কৌশল শিখিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত তরুণ প্রজন্মের কাছে রান্নার শিল্পকে জনপ্রিয় করে তুলছেন।
৯৬ বছর ৮৯ দিন বয়সে বিশ্ব রেকর্ডের এই অর্জন নিয়ে আইলিন চিন অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি জানান, নিজের পারিবারিক রেসিপিগুলো পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারার তৃপ্তিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। রান্নার প্রতি অদম্য ভালোবাসা এবং প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার মানসিকতা তাঁকে এই বয়সেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। ডিজিটাল যুগে বয়স্কদের সক্রিয় অংশগ্রহণ যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, আইলিন চিন তার উজ্জ্বল উদাহরণ। আজ তাঁর এই অসামান্য কীর্তি বিশ্বজুড়ে প্রবীণদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার প্রেরণা যোগাচ্ছে।
