কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার তীব্র হামলা: ওডেসায় জুলাই মাসে ২৮ জনের মৃত্যু
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওডেসা অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার একের পর এক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। স্থানীয় ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেবল জুলাই মাসেই রাশিয়ার এই প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে মস্কোর এই সামরিক কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ওডেসা বন্দর শহরটি দেশটির রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বিশেষ করে শস্য রপ্তানির জন্য এই বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে এখন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিয়মিত বিরতিতে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরের লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন ব্যাহত করাই রাশিয়ার মূল লক্ষ্য। জাহাজগুলোতে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে।
হামলার শিকার হওয়া ওডেসা অঞ্চলে এখন জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাশিয়ার নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আবাসিক এলাকা এবং বন্দরে থাকা বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্থানীয়রা জানান, সতর্ক সংকেত পাওয়ার আগেই বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে। ইউক্রেনীয় প্রশাসন এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, ওই অঞ্চলে সামরিক রসদ ও অস্ত্রবাহী জাহাজ চলাচল করছে, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কিয়েভ। চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতিসংঘ এবং ন্যাটো দেশগুলো সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বন্দরগুলোতে রাশিয়ার এই নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ কেবল ইউক্রেনের ক্ষতি করছে না, বরং বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে রাশিয়া তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
