যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ উপকূলের অদূরে রুশ যুদ্ধজাহাজের মহড়া: বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা
যুক্তরাজ্যের উপকূলীয় এলাকা প্লাইমাউথের খুব কাছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজের লাইভ-ফায়ার বা সরাসরি গোলাগুলির মহড়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার নৌবাহিনীর ‘নিউস্ট্রাশিমাই’ (Neustrashimy) নামক ফ্রিগেটটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এই মহড়াটি ব্রিটিশ ভূখণ্ডের বেশ কাছে হওয়ায় স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মহড়াটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ভেতরেই সম্পন্ন হয়েছে, তবুও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে এ ধরনের তৎপরতাকে কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মহড়ার সময় রুশ যুদ্ধজাহাজটি থেকে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়, যা ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নজরদারি এড়ায়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যে কোনো দেশের যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের মহড়া চালাতে পারে, তবে জনবসতিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ডকে অনেক সময় পেশিশক্তির প্রদর্শনী হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, চলমান উত্তেজনাকর ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে এটি যে পূর্ব-ইউরোপীয় সংঘাতের একটি পরোক্ষ প্রভাব হতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য যে, নিউস্ট্রাশিমাই ফ্রিগেটটি রাশিয়ার বাল্টিক ফ্লিটের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। আধুনিক রাডার এবং গাইডেড মিসাইল সিস্টেমে সজ্জিত এই জাহাজটি বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল ও মহড়া পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তবে প্লাইমাউথ উপকূলের মতো কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন এলাকার কাছে এই মহড়ার পেছনে মস্কোর কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকরা বিশ্লেষণ করছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের একটি অংশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আটলান্টিক এবং ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি রুশ নৌবাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে একাধিকবার রুশ সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজকে ব্রিটিশ জলসীমার কাছাকাছি দেখা গেছে, যা যুক্তরাজ্য এবং ন্যাটো মিত্রদের জন্য নিয়মিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সমুদ্রে সামরিক সতর্কতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে, এটি বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার বিষয়টি আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে বড় শক্তিগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারে নিয়মিত শক্তি প্রদর্শনের আশ্রয় নিচ্ছে।
