ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পূর্ণ কর্মদিবসেই অ্যান্ডি বার্নাম এক তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দেশের সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে গৃহস্থালি বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভ্যাট (VAT) হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নতুন এই নীতির ফলে প্রতিটি পরিবার বছরে গড়ে ৪৫ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের মুখে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই নতুন কর কাঠামো কার্যকর হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাট কমানোর এই সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতির একটি অংশ হতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ এবং কিছু অর্থনীতিবিদ প্রশ্ন তুলেছেন, ভ্যাট কমানোর ফলে সরকারি কোষাগারে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তা সরকার কীভাবে পূরণ করবে। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও নানা জল্পনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার আওতায়ই এই সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করছে, বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর ফলে মানুষের হাতে ব্যয়যোগ্য আয় সামান্য বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক বাজারে অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে শীতকালীন মাসগুলোতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন এই সাশ্রয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরণের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। অ্যান্ডি বার্নামের প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই জনকল্যাণমূলক এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে এই নীতি কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতিবিদরা।
