ইংল্যান্ডে তরুণীদের মাঝে দ্রুত বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ, উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা

ইংল্যান্ডে তরুণীদের মাঝে দ্রুত বাড়ছে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ, উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাজ্যে বিশের কোঠায় থাকা তরুণী ও নারীদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণত বয়স্কদের এই রোগটি এখন কম বয়সীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে বাসা বাঁধছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস মূলত এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না অথবা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। অতীতে এই রোগটি সাধারণত মধ্যবয়সী কিংবা প্রবীণদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও বর্তমান সময়ে টিনএজার এবং বিশের দশকের তরুণীদের মাঝে এর বিস্তার চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য এবং মানসিক চাপ।

চিকিৎসকরা তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মাত্রায় তৃষ্ণা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া, কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া, সবসময় ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করা এবং চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া। এছাড়া শরীরে কোনো ধরনের ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলে তা শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগাও এই রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ এবং জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত পানীয় এবং ফাস্টফুড পরিহার করে তাজা শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই ডায়াবেটিস শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply