জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্ত হত্যাকে এক প্রকার বৈধতা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো পূর্বের মতোই নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে এনসিপির উপজেলা শাখা আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির এই শীর্ষ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাইয়ের গণঅভুত্থানের পর জাতি একটি শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতির প্রত্যাশা করেছিল। বিশেষ করে সীমান্তে প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসী ও অমানবিক নীতির বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট ও সুদৃঢ় জাতীয় অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে সীমান্ত হত্যাকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন বা লঘু করে দেখাতেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যও সেই পুরোনো ধারারই পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই সমালোচনার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের সাহসিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিজিবি সদস্যরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে দেন যে, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর সাধারণ মানুষের মনে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা আজ ক্রমেই হতাশায় রূপ নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন মহলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে জাতীয় আত্মবিশ্বাস আজ হুমকির মুখে পড়ছে। এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা করতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের রাজপথে রক্ত দেওয়া সচেতন জনগণ ও স্বজনহারা পরিবারগুলো কখনোই তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে না।
এনসিপির চিতলমারী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী এফ এম শাহরিয়ার আল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন রনিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
