লন্ডন হিথ্রোতে অবতরণের আগে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানে জরুরি ‘মেডে’ সংকেত: তদন্ত শুরু
জার্মানির ডুসেলডর্ফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে আসার পথে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট জরুরি ‘মেডে’ (Mayday) সংকেত পাঠায়। এয়ারবাস এ৩২০ (Airbus A320) মডেলের ওই উড়োজাহাজটি রানওয়েতে অবতরণের ঠিক পূর্বে ককপিটে পরপর দুইবার বিমানের গতি কমে যাওয়ার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা বা ‘স্টল ওয়ার্নিং’ (Stall Warning) লাভ করে। এর পরপরই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (ATC) এই জরুরি বার্তা প্রদান করেন।
গত ৬ জুলাই সংঘটিত এই ঘটনাটিতে ককপিট ক্রুরা অত্যন্ত সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাজ্যের এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চের (AAIB) তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি লন্ডনের বিখ্যাত হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের উদ্দেশ্যে উচ্চতা হ্রাস করার সময় হঠাৎ করেই ককপিটের সেন্সরে ‘স্টল’ সম্পর্কিত ঝুঁকি ধরা পড়ে। বিমানের পরিভাষায় ‘স্টল’ হওয়া মানে হলো ডানার ওপর দিয়ে বাতাস প্রবাহের গতি এতটাই কমে যাওয়া যে বিমানটি তার স্বাভাবিক ভেসে থাকার ক্ষমতা বা লিফট হারিয়ে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
ককপিটে অ্যালার্ম বেজে ওঠার পরপরই বিমানের পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল অনুসরণ করেন। প্রাথমিক স্টল ওয়ার্নিং বার্তা পাওয়ার পর তারা বিমানের ইঞ্জিনের শক্তি বাড়িয়ে গতি সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করেন। তবে দ্বিতীয়বার একই সতর্কবার্তা বাজলে তারা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে হিথ্রো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে ‘মেডে’ কল দেন। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়মে ‘মেডে’ কল হলো সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিপদের সংকেত, যার মাধ্যমে একটি বিমান রানওয়েতে অবতরণের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার লাভ করে।
মেডে সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি উদ্ধারকারী দলকে রানওয়ের পাশে প্রস্তুত রাখা হয়। তবে অভিজ্ঞ ককপিট ক্রুদের দক্ষতায় বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে হিথ্রোর রানওয়েতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সকলেই নিরাপদ ছিলেন এবং তাদের স্বাভাবিক নিয়মেই টার্মিনালে পৌঁছে দেওয়া হয়। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবতরণের পরপরই উড়োজাহাজটিকে কারিগরি পরীক্ষার জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তার সার্বিক দিক বিবেচনা করে যুক্তরাজ্যের এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। এয়ারবাস এ৩২০ বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার (ব্ল্যাক বক্স) এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে কোনো মেকানিক্যাল সেন্সরের ত্রুটি ছিল নাকি বায়ুমণ্ডলের হঠাৎ বাতাসের গতি পরিবর্তনের (উইন্ড শেয়ার) কারণে এটি ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাইলটদের দ্রুত ‘মেডে’ ডাকার সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা থেকে বিমানটিকে রক্ষা করেছে।
