এআই কোম্পানির দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের তাগিদ: সাইবার হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে এর নিরাপত্তা ঝুঁকিও এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ক্লেমেন্ট ডেলাংগু এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তার মতে, সাইবার হামলাকে স্বাভাবিক বা নিয়মিত ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। এআই নিয়ন্ত্রিত ‘রোগ বটস’ বা ক্ষতিকর বট প্রোগ্রামের মাধ্যমে চালানো হামলা রোধে কোম্পানিগুলোকে এখন আরও বেশি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট সাইবার নিরাপত্তা বিপর্যয় এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। ডেলাংগু মনে করেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল উদ্ভাবন বা মুনাফার দিকে নজর দিলেই চলবে না, বরং তাদের তৈরি করা এআই মডেলগুলো যাতে ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করা তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। যদি কোনো কোম্পানি তাদের এআই সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের অবশ্যই এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাইবার জগতের এই অস্থিরতা প্রযুক্তি ব্যবসার জন্য এক অশনিসংকেত, যা দীর্ঘমেয়াদে উদ্ভাবনের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ‘অ্যাডভারসারিয়াল এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালিত আক্রমণগুলো সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেহেতু এআই সিস্টেমগুলো দ্রুত শিখতে ও নিজেকে পরিবর্তন করতে সক্ষম, তাই অপরাধীরা এগুলোর দুর্বলতা ব্যবহার করে তথ্য চুরি বা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অচল করে দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে এখন একটিই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে—এআই সিস্টেমের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়ভার কার? কেবল সফটওয়্যার নির্মাতারা নাকি যারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে? ডেলাংগুর আহ্বান প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে, কেবল কোডিংয়ের সীমাবদ্ধতায় আটকে না থেকে এআই-এর নৈতিক ব্যবহারবিধি বা এআই গর্ভনেন্সের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নে ডেলাংগুর এই মন্তব্য একটি বিশ্বজনীন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞই মনে করেন, দ্রুত উন্নয়নশীল এই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ছাড়া সাইবার হামলার এই দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসা অসম্ভব। ক্লেমেন্ট ডেলাংগুর এই বক্তব্য কেবল একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি এআই শিল্পকে একটি দায়িত্বশীল পরিণতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি স্পষ্ট আহ্বান। কোম্পানিগুলোর উচিত হবে তাদের এআই মডেলের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ বিনিয়োগ করা এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা।
