পেরুর ঐতিহাসিক নাজকা লাইনসের ওপরে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

পেরুর ঐতিহাসিক নাজকা লাইনসের ওপরে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র নাজকা লাইনসের আকাশসীমায় একটি ছোট আকৃতির পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার বালুভূমিতে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই তাতে আগুন ধরে যায়। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় গাইড ও ক্রু সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

পেরুর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানটি স্থানীয় একটি বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল। পর্যটকদের মরুভূমির বুকে আঁকা রহস্যময় প্রাচীন নাজকা রেখা বা জ্যামিতিক নকশাগুলো ওপর থেকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছিল বিমানটি। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা কোনো যাত্রীর পক্ষেই বেঁচে ফেরা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়, পরবর্তীতে দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মরদেহগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় মর্গে পাঠান।

নাজকা লাইনস ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সংবেদনশীল পর্যটন অঞ্চল। প্রাচীন নাজকা সংস্কৃতির এই রহস্যময় বিশাল জ্যামিতিক নকশাগুলো দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত পর্যটক পেরুতে আসেন। আকাশ থেকে এই নকশাগুলো ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য ছোট আকারের বিমান বা সেসনা এয়ারক্রাফটের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। তবে এই রুটে অতীতেও বেশ কিছু ছোট বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, যা পর্যটন খাতের নিরাপত্তা ও বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই পেরুর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিমান চলাচল নিরাপত্তা পর্ষদ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন বিকল হওয়া কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া অথবা পাইলটের যান্ত্রিক ত্রুটি জনিত কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দেশটির সরকার নিহত পর্যটকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

Leave a Reply