যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহ: ইংল্যান্ডের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি ছুঁয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি
ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গ্রীষ্মের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে চলেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বেশ কিছু এলাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। চলমান এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দেশজুড়ে জরুরি তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা (Heat-Health Alert) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই তাপপ্রবাহকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস (Met Office) এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) যৌথভাবে এই সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ড এবং লন্ডনের আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে এই তীব্র গরম সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা উষ্ণ বাতাস এবং একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়ের কারণে ব্রিটেনের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা প্রায়শই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে, যা দেশের আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করে।
এই তীব্র দাবদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং যারা আগে থেকেই হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের মতো দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শরীরকে সতেজ রাখতে এবং পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জানালা বন্ধ রাখা এবং সরাসরি রোদ এড়াতে পর্দা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পথচারীদের হালকা রঙের সুতি পোশাক পরিধান করা এবং বাইরে বের হলে ছাতা ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তীব্র গরমের প্রভাব কেবল জনস্বাস্থ্যের ওপরেই নয়, বরং দেশের সার্বিক অবকাঠামোর ওপরও পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে রেললাইন বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় ট্রেন চলাচলের গতি হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে কর্তৃপক্ষ, যা যাতায়াতকারীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। এছাড়া, বাসাবাড়িতে অতিরিক্ত ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) ইতিমধ্যেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে, যাতে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত জরুরি সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়।
পাশাপাশি, অতিরিক্ত গরমের কারণে পোষা প্রাণীদের সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র রোদে কুকুর বা অন্যান্য পোষা প্রাণীকে বাইরে হাঁটানো এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ গরম রাস্তা তাদের পায়ের ক্ষতি করতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এই ধরনের চরম দাবদাহ এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু সংকটের একটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যতের তীব্র তাপপ্রবাহের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
