‘লুটিয়াল অগ্লিস’ কী? সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা এই নারী স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে যা জানা জরুরি
ঋতুচক্রের একটি বিশেষ ধাপ নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। নেটিজেনদের কাছে এই বিষয়টি ‘লুটিয়াল অগ্লিস’ (Luteal Uglies) নামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য নারী তাদের এই সময়কার শারীরিক ও মানসিক নেতিবাচক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। তবে এটি কেবল সাময়িক কোনো ইন্টারনেট ট্রেন্ড নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর হরমোনজনিত বিজ্ঞান এবং নারীর স্বাস্থ্যগত বাস্তবতা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, নারীদের ঋতুচক্রের দ্বিতীয়ার্ধকে ‘লুটিয়াল ফেজ’ বা লুটিয়াল পর্যায় বলা হয়। ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়ার আগের সময়টুকুই হলো এই ফেজ। সাধারণত এটি ১২ থেকে ১৪ দিনের মতো স্থায়ী হয়। এই নির্দিষ্ট সময়ে শরীরে প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রায় তীব্র ওঠানামা ঘটে, যা নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লুটিয়াল অগ্লিস’ শব্দটি মূলত এই ধাপের নেতিবাচক বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সময়ে অনেক নারী হঠাৎ করেই ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ি, পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখের নিচে কালি পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। এর পাশাপাশি মানসিক স্তরে হঠাৎ করে নিজের আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, নিজেকে দেখতে কুৎসিত বা আকর্ষণহীন মনে করার তীব্র প্রবণতা তৈরি হয়। আর এই কারণেই এই অবস্থাকে রসাত্মক কিন্তু বাস্তবসম্মতভাবে ‘লুটিয়াল অগ্লিস’ বলা হচ্ছে।
হরমোনের এই আকস্মিক পরিবর্তন সরাসরি মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান ‘সেরোটোনিন’-এর ওপর প্রভাব ফেলে, যা আমাদের মেজাজ বা মুড নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই সময়ে তীব্র বিষণ্ণতা, অকারণে কান্না পাওয়া, রাগ, এবং উদ্বেগের মতো মানসিক লক্ষণগুলো দেখা দেয়। চিকিৎসকরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো তীব্র আকার ধারণ করলে তা ‘প্রি-মেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার’ (PMDD) বা পিএমএস (PMS) এর রূপ নিতে পারে, যা একজন নারীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও কিছু নিয়ম মেনে চললে এর তীব্রতা কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য তালিকা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ক্যাফেইন ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করা এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এই সময়ে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ঋতুচক্রের ওপর নজর রাখা বা পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করা, যাতে মানসিক ও শারীরিকভাবে এই পরিবর্তনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা নারীদের সচেতনতা বাড়াতে এবং নিজেদের শরীরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করছে।
