ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এভারটন গত মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার উজ্জ্বল সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতার অভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। লিগের শেষভাগে এসে পারফরম্যান্স গ্রাফ উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ দলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং চলতি মৌসুমে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে অভিজ্ঞ কোচ ডেভিড ময়েসের ওপর আস্থা রেখেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টসের এক গভীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই প্রশ্ন—ময়েস কি সত্যিই গুডিসন পার্কের এই দুর্দশাগ্রস্ত দলকে সঠিক পথে ফেরাতে সক্ষম হবেন?
ডেভিড ময়েসের নাম এভারটন সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং আবেগের এক জায়গা। অতীতে দীর্ঘ এক দশক গুডিসন পার্কের ডাগআউটে সফল সময় কাটানোর সুবাদে ক্লাবটির সংস্কৃতি ও মানসিকতা সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা রয়েছে। সীমিত বাজেটের মধ্যেও দলটিকে কীভাবে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দলগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ করে তুলতে হয়, তা ময়েস অতীতে প্রমাণ করেছেন। তবে বর্তমান ফুটবলীয় প্রেক্ষাপট এবং এভারটনের ভেতরের ও বাইরের পরিস্থিতি ২০১৩ সালে তার ক্লাব ছাড়ার সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। বর্তমান দলটির স্কোয়াডে গভীরতার অভাব, ইনজুরি সমস্যা এবং মাঠের খেলায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে।
গত মৌসুমে এভারটনের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত রোলারকোস্টার রাইডের মতো। মৌসুমের প্রথমার্ধে দলটি দুর্দান্ত ফুটবল খেলে শীর্ষ ছয় বা ইউরোপীয় স্থানগুলোর জন্য জোরালো লড়াই চালিয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারির পর থেকে স্কোয়াডের ক্লান্তি এবং কৌশলগত একঘেয়েমির কারণে ফলাফল দ্রুত বিপরীত হতে শুরু করে। রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং ফরোয়ার্ড লাইনের গোল খরা দলটিকে টেবিলের নিচের দিকে ঠেলে দেয়। এই পটভূমিতে ডেভিড ময়েসের মতো একজন অভিজ্ঞ ও কড়া অনুশাসনের কোচের আগমন দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তার ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা রক্ষণভাগকে শক্ত করার পাশাপাশি কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলকে শাণিত করতে পারে।
তবে কেবল কৌশলগত পরিবর্তনই এভারটনের ভাগ্য বদলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ক্লাবটির অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং নতুন স্টেডিয়ামে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া মাঠের বাইরের চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকলেও, রাতারাতি অল থুয়েই ব্লুজদের রাতারাতি ইউরোপীয় জায়ান্টে রূপান্তর করা ময়েসের জন্যও একটি কঠিন পরীক্ষা হবে। নতুন মৌসুমে তরুণ প্রতিভাদের বিকশিত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স আদায় করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তার সামনে রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকতে হলে এভারটনকে কেবল ঘুরে দাঁড়ালেই চলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ডেভিড ময়েস কি পারবেন তার পুরোনো জাদুকরী ছোঁয়ায় এভারটনকে আবারও সাফল্যের আলোয় ফিরিয়ে আনতে? উত্তরটি পেতে অবশ্য পুরো মৌসুম জুড়েই গুডিসন পার্কের পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখতে হবে ফুটবল বিশ্বের।
