পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা যেন থামছেই না। বিধানসভার ফলাফলের পর থেকেই শাসকদলের ভাঙন প্রকট হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নতুন গোষ্ঠী গড়েছেন বিদ্রোহী নেতারা। এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের দলে বিধায়কের সংখ্যা ৬৫ ছাড়িয়েছে এবং অনুব্রত মন্ডল ও রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো দাপুটে নেতারাও দলবদল করেছেন। এই অস্থির পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থানের পরিধি বাড়ালেও, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
শনিবার তপসিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক বৈঠকে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ উপস্থিত হলে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। সূত্রের খবর, নির্মল ঘোষ দাবি করেন তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্মল ঘোষকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর অভিযোগের কারণে তাকে দলে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের ঘটনায় নির্মল ঘোষের নাম জড়িয়েছে, যা জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতাও বাড়ছে। লটারি জালিয়াতির মাধ্যমে এক কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার বাদী অবিলম্বে তার গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। এছাড়া আর জি কর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ সরব হয়েছেন। তিনি নির্মল ঘোষকে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে বিদ্রোহীদের শিবিরে যোগ দিয়ে সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। তার মতে, ভুল নেতৃত্ব ও অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণেই মমতার দীর্ঘদিনের সাজানো বাগান আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট ও একের পর এক নেতার দলত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। একদিকে দলীয় কোন্দল, অন্যদিকে বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে জনরোষ—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
