চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার নাহিদ ইসলামের

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার নাহিদ ইসলামের

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের চরম দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দী থাকা এসব মানুষের পাশে স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারের দায়িত্বশীলদের উপস্থিতি না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, কাউকে দোষারোপ করে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। বরং সরকারের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। আনোয়ারার উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধের করুণ অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে বেড়িবাঁধের অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আগের সরকারের আমলে এসব প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং এবারের বাজেটের এক টাকাও দুর্নীতি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, আনোয়ারা ছাড়াও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে তাদের দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি দুর্গত মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়ে চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষি জমি ও বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাহিদ ইসলামের এই সফর ও ত্রাণ কার্যক্রম দুর্গত মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে এনেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদী খননের দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের।