দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা ও টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন দেশের চারটি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে এই দাবি উত্থাপন করেছেন।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে তুলা, সুতা, কাপড় ও রাসায়নিকের মতো আর্দ্রতা-সংবেদনশীল পণ্যগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া রপ্তানি পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ডার বাতিল, আর্থিক জরিমানা এবং এয়ার শিপমেন্টের মতো বাড়তি ব্যয় বহনের চাপে রয়েছেন রপ্তানিকারকরা। এতে সামগ্রিক সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা বা অব্যবস্থাপনার কারণে এই ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। তারা কনটেইনার ও পণ্য আটকে থাকার কারণে উদ্ভূত অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন ও পোর্ট চার্জ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার, যাদের টিকে থাকা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবসায়ী নেতারা বেশ কিছু বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন, ব্যবসায়ীদের জন্য স্বল্প সুদে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা, ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ এবং এলসি খোলার সময়সীমা বাড়ানো। এছাড়া জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কাস্টমস ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। সংকট নিরসনে বাণিজ্য, অর্থ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মুহূর্তে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ না নিলে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং শিল্প উৎপাদন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
