যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে গাড়ি নামানোর ফি বৃদ্ধি: আকাশচুম্বী খরচে যাত্রীদের উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে গাড়ি নামানোর ফি বৃদ্ধি: আকাশচুম্বী খরচে যাত্রীদের উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী নামানোর জন্য নির্ধারিত এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, দেশটির অন্তত দুটি প্রধান বিমানবন্দরে টার্মিনালের খুব কাছে গাড়ি থামানোর জন্য এখন ন্যূনতম ১০ পাউন্ড ফি গুনতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই খরচের বিষয়টি সাধারণ যাত্রী এবং বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির এই প্রবণতা মূলত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আয় বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যজুড়ে এয়ারপোর্ট ড্রপ-অফ বা যাত্রী নামানোর ফি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য গাড়ি পার্কিং করতে গেলেও যাত্রীদের পকেট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ খসে যাচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডন এবং এর আশেপাশের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে এই ফি বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিমানবন্দর পরিচালনা পর্ষদগুলোর দাবি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মান বজায় রাখার স্বার্থে এই বাড়তি ফি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে ফি বাড়ানো অযৌক্তিক।

যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের পাশাপাশি বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব অতিরিক্ত খরচ মানুষের ভ্রমণ পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে। অনেক পরিবার বিমানবন্দর পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি বা নিজস্ব গাড়ির ওপর নির্ভর করে, ফলে এই বাড়তি ফি তাদের বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফি কাঠামো ভিন্ন ভিন্ন হলেও সামগ্রিকভাবে তা ঊর্ধ্বমুখী। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ছাড়ের ঘোষণা না আসায়, ভ্রমণপিয়াসী মানুষ এখন বিকল্প গণপরিবহন বা অনেক দূরে গাড়ি রেখে টার্মিনালে পৌঁছানোর পথ খুঁজছেন। বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবার নামে এই অতিরিক্ত চার্জ আদায় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলমান রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারের তরফ থেকে কোনো নিয়ামক নীতিমালা আশা করছেন।

Leave a Reply