পরিবেশ রক্ষায় খাল-জলাশয় সংরক্ষণ ও দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ রক্ষায় খাল-জলাশয় সংরক্ষণ ও দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে খাল, নদী-নালা ও জলাশয় রক্ষা এবং ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের এখনই পরিবেশ সুরক্ষায় দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোর বর্তমান দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখলদারিত্ব এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে বহু খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে দেশের বড় বড় শহরগুলোতে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই সমস্যা দূরীকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত খনন কাজ পরিচালনার কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের চারপাশের আঙিনা এবং জলাশয়গুলো পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবাইকে নিতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষায় বনায়নের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই উচিত অন্তত একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা। গাছ কেবল আমাদের অক্সিজেন ও ফলমূল দেয় না, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে বা প্রশাসনিক নজরদারি দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মানসিকতার পরিবর্তন। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই অপচনশীল বর্জ্যগুলো মাটির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাশয়গুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য তিনি তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরিশেষে, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই প্রাকৃতিক জলাধার, নদী বা বনাঞ্চলের ক্ষতি না হয়। উন্নয়ন ও পরিবেশের সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে একটি সবুজ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।