নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নে ওআইসি সম্মেলনে বাংলাদেশের জোরালো অংশগ্রহণ
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত নারী বিষয়ক নবম মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে দেশটির অঙ্গীকারকে নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সম্মেলনটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সফলতার চিত্র তুলে ধরে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের মডেলটি অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ডিজিটাল বৈষম্য নিরসন এবং পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে নারীর আইনি সুরক্ষা এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যে আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, তা ওআইসিভুক্ত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কীভাবে নারীদের ওপর বেশি পড়ছে এবং তা মোকাবিলায় নারীদের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে নারী অধিকারের প্রশ্নে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার একটি প্রয়াস। ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নারী ও শিশু অধিকার সংরক্ষণে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বারবার প্রমাণ করেছে যে, সামাজিক কুসংস্কার ও বাধা বিপত্তি পেরিয়ে নারীরা জাতীয় উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশ পুনরায় বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন নারী অধিকারের প্রশ্নে কোনো দেশই পিছিয়ে না থাকে। সম্মেলনের সমাপনীতে সদস্য দেশগুলো নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে, যা ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বে নারী অধিকারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
