গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাসচন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিশাল এই প্রকল্পের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূর্তি নির্মাণের নামে তিনি সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন উৎস থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেছিলেন, যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব তিনি দিতে পারেননি।
দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দগঞ্জের এই বিতর্কিত প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনাটি জনমনে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এর তহবিলের উৎস নিয়ে নানা গুঞ্জনও ডালপালা মেলছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নামে সংগৃহীত অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অনুসন্ধান শুরু করে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য যে, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে এ ধরনের বড় প্রকল্পের আড়ালে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা অতীতেও দেশে নতুন নয়। হরিদাসচন্দ্রের এই গ্রেফতারের ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো ধরনের ধর্মীয় বা সামাজিক প্রকল্পের নামে যেন কেউ সাধারণ মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। এই গ্রেফতারের ফলে আপাতত মূর্তি নির্মাণের কাজ থমকে গেছে এবং বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
