ঢাকায় নয়, দিল্লিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিমসটেকের পরবর্তী বৈঠক

ঢাকায় নয়, দিল্লিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিমসটেকের পরবর্তী বৈঠক

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জোট ‘বিমসটেক’ (BIMSTEC)-এর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বাংলাদেশে হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বিভিন্ন কৌশলগত কারণে অনেক সময় ভেন্যু পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। বিমসটেকের এই আসন্ন বৈঠকটি মূলত আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করবে।

বিমসটেক বা ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে যৌথভাবে কাজ করা। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে সড়ক ও সমুদ্রপথের সংযোগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বিশেষ করে ভারত তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অংশ হিসেবে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। এছাড়া, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বলয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি থেকে এই আলোচনার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

যদিও বাংলাদেশে এই বৈঠকটি হওয়ার একটি প্রত্যাশা ছিল, তবুও দিল্লির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি বিমসটেকের লক্ষ্য অর্জনে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। বরং দিল্লির উন্নত কূটনৈতিক অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা এই সম্মেলনকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে। বৈঠকে বাণিজ্য বাধা দূর করা, শুল্ক হার হ্রাস এবং ডিজিটাল সংযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সব মিলিয়ে, দিল্লির এই বৈঠকটি বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।