সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার পাল্টা জবাব

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলার জের ধরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। হুথিদের দাবি, সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় আভা (Abha) বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন সংকটে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ও সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সানা বিমানবন্দরে চালানো বিমান হামলার জন্য সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করেছে হুথিরা। এর জবাবে তারা সৌদি আরবের আসির প্রদেশে অবস্থিত আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন নিক্ষেপ করে। হুথিদের দাবি, তাদের এই অভিযান সফল হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত এই ধরনের হামলার পর সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে থাকে।

ইয়েমেনে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদীর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশের একটি বড় অংশ দখল করে নেওয়ার পর সৌদি আরব এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। এর পর থেকে সানা বিমানবন্দরটি মূলত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে বিমান চলাচল অত্যন্ত সীমিত। হুথিদের অভিযোগ, সৌদি জোটের অব্যাহত অবরোধ ও বিমান হামলার কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের দাবি, হুথিরা সানা বিমানবন্দরকে সামরিক ঘাঁটি এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হুথিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইয়েমেন সীমান্ত থেকে তুলনামূলকভাবে কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই বিমানবন্দরটিতে এর আগেও একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। অতীতে এসব হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি যাত্রীবাহী বিমানে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। হুথিদের মতে, আভা বিমানবন্দরটি সৌদি সামরিক জোটের যুদ্ধবিমানগুলোর জ্বালানি নেওয়া এবং সামরিক অভিযানের সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার কারণে এটি তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু।

এই সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যখন জাতিসংঘ ও ওমানের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন এই ধরনের সংঘাত সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের পর ইয়েমেন যুদ্ধের অবসানের যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা এই নতুন উত্তেজনার ফলে বড় ধাক্কা খেল। আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ইয়েমেনের ভঙ্গুর মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে না যায়।