জেফ্রি এপস্টেইনের সাথে সম্পর্ক: বিল গেটসের দাতব্য সংস্থায় অনুদান বন্ধ করলেন ওয়ারেন বাফেটে
বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী এবং বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের কর্ণধার ওয়ারেন বাফেটে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের দাতব্য সংস্থার সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আলোচিত এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিল গেটসের সাথে প্রয়াত বিতর্কিত অর্থবিত্তের মালিক জেফ্রি এপস্টেইনের পুরনো সম্পর্কের বিষয়টি। বাফেটে প্রকাশ্যে এই সম্পর্ককে অত্যন্ত ‘অরুচিকর’ এবং নৈতিকভাবে আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান ট্রাস্টি এবং দাতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন ওয়ারেন বাফেটে। তবে জেফ্রি এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা এবং তার সাথে বিল গেটসের যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বাফেটে এই সম্পর্কের বিষয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বাফেটে জানান, গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড এবং এপস্টেইনের মতো ব্যক্তির সাথে গেটসের মেলামেশা একই বৃত্তে চলতে পারে না। নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি এই অনুদান প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টেইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনাঢ্য বিনিয়োগকারী ছিলেন, যার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচার এবং শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এপস্টেইনের সাথে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর মধ্যে বিল গেটসের নাম আসায় বিশ্বব্যাপী বিল গেটসের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যদিও বিল গেটস শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, এপস্টেইনের সাথে তার বৈঠকগুলো ছিল শুধুমাত্র জনহিতকর কাজে অর্থায়ন বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে, তবে সাধারণ মানুষ এবং তার ঘনিষ্ঠ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেননি।
বাফেটের এই সিদ্ধান্তের ফলে গেটস ফাউন্ডেশনের তহবিল এবং এর দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধনকুবেরদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নৈতিক স্বচ্ছতা এখন বিনিয়োগকারী মহলে বড় মাপকাঠিতে পরিণত হয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশন বিশ্বের স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক অবদান রাখলেও, এমন বিতর্কিত সম্পর্কের জেরে দাতাদের আস্থা হারানো সংস্থাটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গেটস ফাউন্ডেশন তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্বে জল্পনা চলছে। ওয়ারেন বাফেটের এই সাহসী পদক্ষেপকে করপোরেট জগতে নৈতিক জবাবদিহিতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
