নবজাতকদের প্রাণঘাতী রোগ শনাক্তে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, উচ্ছ্বসিত গায়িকা জেসি নেলসন
ইংল্যান্ডে নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাণঘাতী ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি’ (এসএমএ) নামক জেনেটিক রোগ শনাক্তকরণে ‘হিল প্রিক’ বা গোড়ালিতে সুঁই ফুটিয়ে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সরকারের এই সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ গায়িকা এবং লিটল মিক্স ব্যান্ডের প্রাক্তন সদস্য জেসি নেলসন।
স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি বা এসএমএ হলো একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত ভয়াবহ স্নায়বিক ব্যাধি, যা শিশুদের পেশির শক্তি কেড়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট ও চলনশক্তি হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের জীবনপ্রদীপ অকালেই নিভে যেতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ইংল্যান্ডে এই রোগটি শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত কোনো স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ছিল না, যার ফলে অনেক শিশুর রোগ নির্ণয় করতে করতে অনেক দেরি হয়ে যেত। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে, জন্মের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণ একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি ধরা সম্ভব হবে।
জেসি নেলসন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত, তিনি এই ঘোষণায় তার আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত হাজার হাজার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে এবং শিশুদের একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। তার মতে, এটি কেবল একটি চিকিৎসাবিদ্যার জয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের জনদাবি ও প্রচারণার ফসল। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএমএ আক্রান্ত শিশুদের জন্য বর্তমানে বাজারে অত্যন্ত ব্যয়বহুল কিন্তু কার্যকর জিন থেরাপি ও ইনজেকশন রয়েছে। তবে এই চিকিৎসাগুলো তখনই সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন শিশুর শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই তা শুরু করা যায়।
ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) জানিয়েছে, এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর ফলে প্রতি বছর কয়েক ডজন শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। হিল প্রিক টেস্টের মাধ্যমে সংগৃহীত রক্তে এসএমএন১ (SMN1) জিনের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে, যা এই রোগের মূল কারণ। যদি কোনো শিশুর রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তবে দ্রুততম সময়ে তাকে আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনা হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যখাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল এবং এটি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থা এবং ভুক্তভোগী অভিভাবকরা এই স্ক্রিনিং চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, দেরিতে রোগ ধরা পড়ার কারণে অনেক শিশু স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হতো। এখন থেকে সেই অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের জেনোমিক মেডিসিন বা জিনতত্ত্বভিত্তিক চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো, যা আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
