আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ে ভেঙে পড়া ইংলিশ দলকে ‘মাথা উঁচু রাখার’ পরামর্শ দিলেন প্রিন্স উইলিয়াম

আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ে ভেঙে পড়া ইংলিশ দলকে ‘মাথা উঁচু রাখার’ পরামর্শ দিলেন প্রিন্স উইলিয়াম

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচে পরাজয়ের পর ভেঙে পড়া ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলকে সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের এই উত্তরসূরি ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, হারের বেদনা সত্ত্বেও তাদের এই দীর্ঘ লড়াই পুরো জাতিকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি খেলোয়াড়দের হতাশ না হয়ে ‘মাথা উঁচু রাখার’ আহ্বান জানান।

ফুটবল বিশ্বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা আর ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। মাঠের তীব্র লড়াই শেষে ইংলিশ শিবিরের স্বপ্নভঙ্গ হলে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোটি কোটি ব্রিটিশ সমর্থক হতাশায় নিমজ্জিত হন। ঠিক এমন এক মুহূর্তে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি হিসেবে প্রিন্স উইলিয়াম দলের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মানসিক শক্তি জোগানোর চেষ্টা করেন। নিজের বার্তায় তিনি দলের লড়াকু মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রিন্স উইলিয়াম তার বিবৃতিতে বলেন, “খেলাধুলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে তোমরা যেভাবে মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছ তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই টুর্নামেন্টে তোমাদের পুরো যাত্রা আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই এই ফলাফলে ভেঙে না পড়ে মাথা উঁচু রাখো।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জন্য খেলোয়াড়দের এই ত্যাগ ও নিষ্ঠা বৃথা যাবে না এবং ভবিষ্যতে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরবে।

উল্লেখ্য, ফুটবল মাঠে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সালের ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড—প্রতিটি ম্যাচই নাটকীয়তায় ভরপুর থেকেছে। ফলে এই দুই দলের লড়াই কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জাতীয় আবেগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, প্রিন্স উইলিয়ামের এই ইতিবাচক বার্তা দলের তরুণ ফুটবলারদের মনোবল চাঙ্গা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরাজয়ের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে ইংলিশ ফুটবলাররা আবার মাঠে নামবেন, এমনটাই প্রত্যাশা এখন পুরো ব্রিটেনের।