ইউক্রেনের অটল সমর্থনে কিয়ের সফর করলেন কিয়ার স্টারমার: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

ইউক্রেনের অটল সমর্থনে কিয়ের সফর করলেন কিয়ার স্টারমার: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়ের সফর করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তিনি কিয়েভের প্রতি লন্ডনের অটল সমর্থনের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্টারমারের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

সফরকালে কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করেছেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অপরিবর্তিত। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের এই সমর্থন কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি ‘কাস্ট-আয়রন’ বা ইস্পাত-দৃঢ় সংকল্প। যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠে ইউক্রেন যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তা নিশ্চিত করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। এর আগে থেকেই যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে, যা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় সহায়তার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। স্টারমার তার বক্তৃতায় বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইউক্রেনের ন্যায়বিচার এবং শান্তির জন্য তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখেন। যুক্তরাজ্য সব সময়ই ইউক্রেনের বন্ধু হিসেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে কিয়েভের পক্ষে সরব থেকেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কিয়ার স্টারমারের এই সফর আন্তর্জাতিক মহলে একটি জোরালো বার্তা পাঠিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা প্রশ্নে ব্রিটেন তার অবস্থানে অনড়। আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্রিটেন আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরটি একই সঙ্গে যুদ্ধের মাঠে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ উন্নত বিশ্বের কাছ থেকে সরাসরি সমর্থন পাওয়া যেকোনো দেশের জন্যই একটি বড় নৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাজ্য কিয়েভের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সামরিক ও মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। কিয়ার স্টারমারের এই সফর সেই ধারাবাহিকতারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা যুদ্ধের সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকার ব্রিটিশ সরকারের দৃঢ় সংকল্পকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।