আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে আত্মসমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে অধিনায়ক হ্যারি কেনের কণ্ঠে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেও বড় শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর কেন মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য দলের কৌশলে আরও কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে সব ধরনের প্রতিভা থাকলেও একটি ‘শেষ ধাঁধার টুকরো’ এখনও অনুপস্থিত, যা তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত ইংল্যান্ড বিগত বেশ কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফুটবল খেললেও নকআউট পর্বে এসে হোঁচট খাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। কেনের মতে, কেবল ভালো খেললে হবে না, চাপের মুখে খেলার ধরন এবং ট্যাকটিক্যাল বিচক্ষণতা আরও শাণিত করতে হবে। আর্জেন্টনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হারটি দলের বর্তমান দুর্বলতাগুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের চাপের মুখে রক্ষণভাগের অসংলগ্নতা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে।
ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক মনে করেন, দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি ম্যাচে আরও নিখুঁত হতে হবে। আমরা জানি আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্য যে অদম্য জেদ এবং কৌশলী খেলার প্রয়োজন, তাতে আমরা এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছি।’ কেনের এই মন্তব্য মূলত দলের কোচিং স্টাফ এবং ফুটবলারদের মধ্যে একটি নতুন করে দায়বদ্ধতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ট্রফিহীন থাকার যন্ত্রণা ইংলিশ সমর্থকদের জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালের পর থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসরে শিরোপা জিততে না পারা থ্রি লায়ন্সরা প্রতিটি টুর্নামেন্টেই প্রত্যাশার চাপ নিয়ে মাঠে নামে। কেনের এই বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, দলের ভেতরে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিশ্ব ফুটবল র্যাঙ্কিং এবং স্কোয়াডের গভীরতা বিচারে ইংল্যান্ড যে উচ্চতায় অবস্থান করছে, সেই তুলনায় অর্জনের খাতাটি বেশ পাতলা।
সামনের দিনগুলোতে ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের খেলার ধরণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলা। কেনের ভাষায়, ‘আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কীভাবে আমরা আরও ভালো দল হয়ে উঠতে পারি।’ এখন দেখার বিষয়, ব্রিটিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচিং প্যানেল হ্যারি কেনের এই পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে দলের কৌশলগত কাঠামোতে কোনো আমূল পরিবর্তন আনে কিনা, যা তাদের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতার স্বপ্ন পূরণ করতে সহায়তা করবে।
