স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কে দাবানল: তিন দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন

স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কে দাবানল: তিন দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন

স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কের বিস্তীর্ণ হিল্যান্ড এলাকায় ভয়াবহ দাবানল তৃতীয় দিনে পদার্পণ করেছে। নেথি ব্রিজের অদূরে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর অর্ধশতাধিক কর্মী দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথে পানি নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যা এলাকাটির দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার মূল কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিল্যান্ডের শুষ্ক ঝোপঝাড় এবং ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের স্তূপ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। গত কয়েকদিনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও কম বৃষ্টিপাতের ফলে এলাকাটি অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছিল, যা দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য জ্বালানির ভূমিকা পালন করেছে। বাতাসের দিক পরিবর্তনের ফলে আগুনের শিখা বিভিন্ন দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা দমকল কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আগুনের বিস্তার রোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই দাবানল স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কেয়ার্নগর্মস এলাকাটি বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। আগুনের তাপে হিল্যান্ডের বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন বিভাগ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে যাতে আগুন ন্যাশনাল পার্কের আরও গভীরে প্রবেশ করতে না পারে।

এদিকে, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। ফলে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফায়ার সার্ভিস ও রেসকিউ টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পানি ছিটানোর পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে আগুনের উৎস ও বিস্তৃতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের পাহাড়ের ওই এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ ও অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টায় কোনো ত্রুটি না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।