দলের ঐক্যের ওপর আস্থা রেখে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন

দলের ঐক্যের ওপর আস্থা রেখে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন

বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে স্পেনের ড্রেসিংরুমে এখন আত্মবিশ্বাসের জোয়ার। রবিবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাওয়া স্প্যানিশ দলের মূল শক্তি তাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সংহতি বা ‘কালেক্টিভ আইডেন্টিটি’। স্পেনের সাবেক অধিনায়ক সিজার আজপিলিকুয়েতা মনে করেন, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বর্তমান দলটি যেভাবে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তুলেছে, তা তাদের শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত স্পেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক নতুন দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে। দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত নির্দেশনায় দলটি এখন কোনো নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং গোটা দলের সমন্বিত প্রচেষ্টাই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। আজপিলিকুয়েতা গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই দলটির প্রাণশক্তি হলো তাদের পারস্পরিক বিশ্বাস। প্রতিটি খেলোয়াড় জানেন তাদের দায়িত্ব কী এবং কীভাবে দলের স্বার্থে তারা নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারেন। এই মানসিকতাই বড় মঞ্চে স্পেনকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।

তবে ফাইনালের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা কোনো সাধারণ দল নয়। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা যেভাবে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে, তা স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। আজপিলিকুয়েতার মতে, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পেতে হলে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ৯০ মিনিট পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। স্প্যানিশ স্কোয়াড এই মুহূর্তে শারীরিকভাবে যেমন ফিট, মানসিকভাবেও তারা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আছে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেন তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছে। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করা স্পেনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলেও, বর্তমান দলটি রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণভাগে রূপান্তরের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষুরধার। লুইস দে লা ফুয়েন্তে তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে যে দারুণ ভারসাম্য তৈরি করেছেন, তা ফাইনালে দেখা যাবে বলে আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের এই মহারণের আগে স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড় শান্ত রয়েছেন এবং মাঠের বাইরের কোনো চাপের প্রভাব তারা নিজেদের পারফরম্যান্সে পড়তে দিতে নারাজ। সিজার আজপিলিকুয়েতার বিশ্বাস, যে দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারবে এবং বড় চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রাখবে, শেষ হাসি তাদের মুখেই ফুটবে। কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি এখন রবিবার রাতের সেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে, যেখানে স্পেন নিজেদের ফুটবলীয় ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়টি নতুন করে লিখতে প্রস্তুত। ফুটবলীয় ঐতিহ্যের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।