প্রতারণার ফাঁদ: ১১৫ প্রবীণের সাড়ে ১১ মিলিয়ন পাউন্ড হাতিয়ে বিলাসী জীবন স্টিভেন লঙের
যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন স্থানে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। স্টিভেন লঙ নামক এক ব্যক্তি অত্যন্ত সুচতুর কৌশলে প্রায় ১১৫ জন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের আস্থার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালানো এই প্রতারণায় তারা তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লঙ এই বিপুল অর্থ ব্যবহার করেছেন নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামী গাড়ি, ভ্রমণ এবং জাঁকজমকপূর্ণ জীবন পরিচালনার পেছনে।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতারক লঙ নিজেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত বিনিয়োগকারী বা উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের দুর্বলতা ও সঞ্চয়ের ওপর তাদের নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রলোভন দেখাতেন। শুরুতে ছোট অংকের রিটার্ন দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও, পরে বড় অংকের বিনিয়োগের নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নিরুদ্দেশ হতেন তিনি। এই প্রতারণার ফলে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন।
ভুক্তভোগীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, স্টিভেন লঙের আচরণ অত্যন্ত মার্জিত ও পেশাদার হওয়ায় তারা কখনোই সন্দেহ করতে পারেননি যে তারা বড় কোনো চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। বিচারের দাবিতে বর্তমানে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অনেকেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং এই অর্থের ওপরই তাদের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ নির্ভর ছিল। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, আসামী এই অর্থ পাচার করেছেন কি না বা আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়েও কাজ করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও এ ধরণের আর্থিক জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিন্যান্সিয়াল স্ক্যাম বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। স্টিভেন লঙের এই কর্মকাণ্ড আধুনিক অপরাধ জগতের এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি কেবল একটি আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা নয়, বরং সামাজিক আস্থার সংকটের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
