দাবানলের কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে টরন্টো ও নিউইয়র্কের বাতাস

দাবানলের কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে টরন্টো ও নিউইয়র্কের বাতাস

উত্তর আমেরিকার প্রধান শহরগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়া জনজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। টরন্টো, নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো জনবহুল শহরগুলো বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছিল। তবে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওন্টারিও প্রদেশে অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসায় দাবানলের তীব্রতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে উত্তর আমেরিকার সীমান্তবর্তী শহরগুলোর বায়ুর গুণগত মান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে কানাডার বিশাল বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। এই আগুনের ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরের বাতাসের প্রবাহের সঙ্গে মিশে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও শিকাগোর মতো বড় শহরগুলোতে তীব্র ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি শুধু পর্যটন বা দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত করেনি, বরং শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল এবং অনেক জায়গায় জরুরি সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছিল।

কানাডার আবহাওয়া দপ্তর ও দমকল বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ওন্টারিওর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সহায়তা এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আগুনের বিস্তার অনেকটাই কমে এসেছে। তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বনভূমির আর্দ্রতা হ্রাস পাওয়ার ফলে দাবানলের ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বনাঞ্চল ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।

উল্লেখ্য, বায়ুর মান সূচক (AQI) অনুযায়ী গত কয়েকদিন এই শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এখন ধোঁয়াশা কেটে যাওয়ায় আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাতাসের গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। সাধারণ নাগরিকদের এখনো বাইরের দূষিত বাতাসের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তাদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনো নতুন ছোটখাটো আগুন পুনরায় বড় আকার ধারণ করতে না পারে।

Leave a Reply