ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করলেন আর্জেন্টাইন কোচ কনটেপোমি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করলেন আর্জেন্টাইন কোচ কনটেপোমি

নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপের এক উত্তপ্ত ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৩১-২৪ পয়েন্টে পরাজিত হওয়ার পর মাঠের বাইরের নাটকীয়তায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাগবি অঙ্গন। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ ফেলিপে কনটেপোমি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে যথাযথ সম্মানের অভাব প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে মাঝপথেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করেছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। খেলা চলাকালীন এবং ম্যাচ শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। কনটেপোলি অভিযোগ করেন যে, ইংলিশ খেলোয়াড়রা খেলায় জয়ী হওয়ার পর আর্জেন্টাইন দলের প্রতি যে ধরনের সৌজন্যবোধ দেখানো উচিত ছিল, তা তারা দেখাননি। কোচের মতে, খেলার মাঠে তীব্র লড়াই হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু জয়ের পর প্রতিপক্ষকে অসম্মান করার প্রবণতা আধুনিক খেলার স্পিরিটের পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি ম্যাচ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ শুরু করলেও, মাঠের কিছু অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার মূল ভিত্তি হলো শ্রদ্ধা। যদি জয়ের পর সেই শ্রদ্ধার অভাব দেখা যায়, তবে সেটি দুঃখজনক।’ এরপরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থেকে তিনি দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থানের ফলে সংবাদ সম্মেলনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাপ্ত ঘোষণা করতে হয়।

রাগবি বিশ্বে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। এই পরাজয় আর্জেন্টিনার জন্য কেবল পয়েন্ট হারানোর নয়, বরং মনোবল ধরে রাখার ক্ষেত্রেও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কনটেপোলির এমন ক্ষোভের পেছনে কেবল ওই নির্দিষ্ট ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী কিছু মানসিক টানাপোড়েনও কাজ করতে পারে। যদিও ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিপরীতে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে এমন বিতর্ক প্রতিযোগিতার মান এবং খেলোয়াড়দের আচরণবিধি নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রাগবি বোর্ড (World Rugby) এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে কি না, তা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতুহল বাড়ছে। আপাতত আর্জেন্টিনা দলের লক্ষ্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের সামলে নিয়ে জয়ের ধারায় ফিরে আসা। তবে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply