প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও সম্প্রচারক এডওয়ার্ড স্টরটন আর নেই
ব্রিটিশ গণমাধ্যম জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সাংবাদিকতার এক অবিস্মরণীয় নাম এডওয়ার্ড স্টরটন ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের পেশাগত জীবনে তিনি সংবাদ উপস্থাপনা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যে উচ্চতা স্পর্শ করেছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত বিবিসি রেডিও ৪-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টুডে’ (Today)-এর দীর্ঘকালীন উপস্থাপক হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। প্রায় এক দশক ধরে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ রাজনীতি ও সমসাময়িক ঘটনাবলিকে সাধারণ মানুষের কাছে বস্তুনিষ্ঠভাবে পৌঁছে দিয়েছেন।
স্টরটনের কর্মজীবনের সূচনা হয়েছিল সাংবাদিকতায় তার অদম্য আগ্রহ ও তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে। তিনি কেবল একজন উপস্থাপকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন চ্যানেল ফোর নিউজ (Channel 4 News)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ব্রিটিশ টেলিভিশন সাংবাদিকতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, স্টরটন তাদের মধ্যে অন্যতম। সংবাদ পরিবেশনায় নিরপেক্ষতা এবং গভীরতা বজায় রাখায় তিনি সব সময় আপসহীন ছিলেন। তার কণ্ঠস্বর ছিল রেডিও শ্রোতাদের কাছে আস্থার প্রতীক।
তার মৃত্যুতে ব্রিটিশ মিডিয়া হাউজগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও সাংবাদিক মহলে তিনি তার বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ এবং জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনের দক্ষতার জন্য সমাদৃত ছিলেন। কেবল সংবাদপাঠ নয়, তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণগুলো ব্যাখ্যায় বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তার প্রয়াণে বিশ্ব সাংবাদিকতা এক অভিজ্ঞ ও সাহসী কণ্ঠস্বরকে হারাল।
এডওয়ার্ড স্টরটনের সাংবাদিকতা জীবন কেবল সংবাদ উপস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি বিভিন্ন সময় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, যা তার পেশাদারিত্বকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তার অকাল প্রস্থান সাংবাদিকতা জগতের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। লন্ডনসহ পুরো যুক্তরাজ্যে শোক প্রকাশ করছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুতে শুধু তারা নন, বরং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের দীর্ঘদিনের সহযাত্রীরা এক অভিভাবককে হারিয়েছেন। তার কর্মজীবন এবং সততা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
