যুক্তরাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র খরার আশঙ্কা: ইংল্যান্ডের ৮টি অঞ্চলে চরম সতর্কতা জারি

যুক্তরাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র খরার আশঙ্কা: ইংল্যান্ডের ৮টি অঞ্চলে চরম সতর্কতা জারি

যুক্তরাজ্যে বিরূপ আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের চরম ঘাটতির কারণে নতুন করে তীব্র পানি সংকটের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির পরিবেশ বিষয়ক তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের অন্তত ৮টি অঞ্চল বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া’ (Prolonged Dry Weather) পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকদের মতে, এই ধাপটি মূলত দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ‘খরা’ (Drought) ঘোষণার পূর্ববর্তী চরম সতর্ক সংকেত। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং একই সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের প্রধান নদী, খাল-বিল ও ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলোতে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

যুক্তরাজ্যের এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এই চরম শুষ্কতার মুখোমুখি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এসব অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একদিকে টানা খরাভাব, অন্যদিকে তীব্র দাবাদাহের কারণে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় পানির অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির সংস্থান দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত না হলে এবং আগামী দিনগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এসব অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে খরা ঘোষণা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

এই সম্ভাব্য খরা পরিস্থিতি দেশটির কৃষি খাত ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। শুষ্ক মাটির কারণে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা ফসল রক্ষা ও গবাদিপশুর সুপেয় পানির বন্দোবস্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের ফলে অনেক এলাকায় সেচের পানি সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতের সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ফল ও শাকসবজি উৎপাদনে চরম বিপর্যয় ঘটবে, যা স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজারমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের সুপেয় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (ওয়াটার কোম্পানি) সাধারণ নাগরিকদের প্রতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। বাগান পরিচর্যা, ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে পানির অপচয় বন্ধ করতে বলা হয়েছে। অনেক অঞ্চলে ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে ‘হোসপাইপ ব্যান’ বা পানি ব্যবহারের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিবেশ সংস্থাগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং খামার মালিকদের সাথে সমন্বয় করে নদীর বাস্তুসংস্থান ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য কাজ করছে, কারণ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় অনেক নদীর জলজ জীবন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

পরিবেশবিজ্ঞানী ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দিন দিন আরও চরম রূপ ধারণ করছে। গ্রীষ্মকালে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতা ও তাপদাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের পানি ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদী জলাধার নির্মাণ এবং টেকসই পানি সংরক্ষণ নীতি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ইংল্যান্ডের জনজীবন ও অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply