এম৪ মোটরওয়ের নিচে জীবন: উষ্ণ দিনে অদ্ভুত এক আশ্রয়ের অভিজ্ঞতা

এম৪ মোটরওয়ের নিচে জীবন: উষ্ণ দিনে অদ্ভুত এক আশ্রয়ের অভিজ্ঞতা

যুক্তরাজ্যের ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি হলো এম৪ মোটরওয়ে (M4 motorway)। প্রায় ষাট বছর আগে স্থানীয় বহু মানুষের বসতি ও ঘরবাড়ির ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এই বিশাল উড়ালসড়ক ও হাইওয়ে নেটওয়ার্ক। সময়ের পালাবদলে এই মোটরওয়ের আশপাশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বর্তমানে এই সড়কের ছায়ায়, কংক্রিটের ঠিক নিচেই জীবনযাপন করছেন কিছু সৌভাগ্যবান বা দুর্ভাগা মানুষ, যাদের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের নানা রোমাঞ্চকর ও কঠিন অভিজ্ঞতার কথা। তীব্র গরম ও দাবদাহের দিনে এই সুউচ্চ মোটরওয়ের বিশাল কংক্রিট কাঠামো যেন এক প্রাকৃতিক ছায়াতরু হিসেবে কাজ করে। সাধারণ মানুষ যখন প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করে, তখন এসব বাসিন্দাদের ঘরের একাংশ ও বাগান ঢাকা থাকে মোটরওয়ের সুনিবিড় ছায়ায়। ফলে তাপপ্রবাহের সময় তাদের প্রাঙ্গণ তুলনামূলক বেশ শীতল থাকে, যা তাদের জন্য এক প্রকার স্বস্তির আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।

তবে এই সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিড়ম্বনা ও সমস্যার পাহাড়। দিবারাত্রি মোটরওয়ের ওপর দিয়ে ছুটে চলা শত শত ভারী যানবাহনের গর্জনে বাসিন্দাদের জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে নীরবতা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই কানের কাছে বাজতে থাকে গাড়ির চাকার ঘর্ষণ শব্দ ও ইঞ্জিনের গুঞ্জন। এছাড়া পরিবেশগত ও বায়ু দূষণের বিষয়টি তো রয়েছেই। যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং টায়ার থেকে ছড়ানো ক্ষুদ্র কণা নিয়মিতভাবে তাদের বাড়ির আঙিকা ও বাগানের বাতাসে মিশে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে যখন এই মোটরওয়েটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছিল, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ বা দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাবের চেয়ে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম তৈরিকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ফলে বহু মানুষের সাজানো বাগান ও প্রাঙ্গণ আংশিক বা সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেয় এই সরকারি প্রকল্প। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে যারা এই ছায়ার নিচে বসবাস করছেন, তারা মানিয়ে নিয়েছেন এই বৈরী পরিবেশের সঙ্গে। কেউ কেউ একে অভিশাপ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে এটিকে আশীর্বাদ হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। আধুনিক নগরায়নের এই দ্বিমুখী রূপ আগামী দিনে জনজীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।

Leave a Reply