অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা জ্যারেড লেটোর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ, আসছে নতুন তথ্যচিত্র

অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা জ্যারেড লেটোর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ, আসছে নতুন তথ্যচিত্র

হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ও অ্যাকাডেমি পুরস্কারজয়ী অভিনেতা জ্যারেড লেটোর বিরুদ্ধে এবার একাধিক নারীর আনা যৌন হেনস্তার অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি একটি বিশেষ তথ্যচিত্রে এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলো বিশদভাবে উত্থাপন করা হয়েছে, যা বিনোদন জগতে এক নতুন ঝড় তুলেছে। বেশ কয়েকজন নারী এই অভিনেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনুচিত আচরণ এবং যৌন অসদাচরণের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে সুনাম কুড়ানো এই তারকার বিরুদ্ধে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তাঁর ক্যারিয়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যচিত্রটিতে অভিযোগকারী নারীরা তাঁদের জীবনের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কথা প্রথমবার বিস্তারিতভাবে এবং প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। তাঁদের দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, জ্যারেড লেটো বিভিন্ন সময়ে নিজের তারকাখ্যাতি ও প্রভাব ব্যবহার করে তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং যৌন হেনস্থা করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিনোদন মাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীবাহিনীর পাশাপাশি তাঁর বেশ কয়েকজন অনুরাগী বা ভক্তও রয়েছেন বলে তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। হলিউডে যেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কাজ করছে, সেখানে লেটোর মতো একজন শীর্ষস্থানীয় অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় বিষয়টিকে আইনি ও নৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জ্যারেড লেটো শুধু একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান অভিনেতাই নন, তিনি জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘থার্টি সেকেন্ডস টু মার্স’-এর প্রধান গায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ২০১৩ সালে ‘ডালাস বায়ার্স ক্লাব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতার অস্কার লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্দার পেছনে তাঁর বিভিন্ন আচরণ নিয়ে হলিউডের অন্দরে কানাঘুষা থাকলেও এবারই প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তা সবার সামনে প্রকাশ পেতে চলেছে। এই তথ্যচিত্রটিতে ভুক্তভোগী নারীদের দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিক প্রমাণও উপস্থাপন করার দাবি করা হয়েছে।

হলিউডের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের হেনস্থার ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চাপা পড়ে থাকত। কিন্তু ‘মি টু’ আন্দোলনের পর থেকে পুরো দৃশ্যপট বদলে গেছে। হার্ভে ওয়াইনস্টাইন থেকে শুরু করে বহু শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অপরাধের ইতিহাস প্রকাশ্যে আসার পর এখন লেটোর বিষয়টি নিয়েও জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। বিনোদন জগতের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে লেটোর তারকা ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে এবং তাঁর বর্তমান ব্যান্ড ট্যুর বা চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি মহলেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। জ্যারেড লেটোর ঘনিষ্ঠ মহল কিংবা তাঁর মুখপাত্রদের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খুব দ্রুতই তাঁর আইনজীবীদের দল এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বা অভিযোগ অস্বীকার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্যচিত্রটি মুক্তির পথে থাকায় এবং এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল বাড়তে থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পাবে এবং নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি আবারও জোরালো হবে।

Leave a Reply