উগান্ডায় উন্মোচিত হলো এন্টেবে উদ্ধার অভিযানে নিহত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের আবক্ষ মূর্তি
পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক এন্টেবে বিমান ছিনতাই উদ্ধার অভিযানে নিহত ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই জোনাথন নেতানিয়াহুর একটি আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে। এই ঘটনাটি দুই দেশের কূটনৈতিক এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে উগান্ডার এন্টেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার অর্ধশতক পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে এই স্মারক উন্মোচন করা হলো।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ২৭ জুন এয়ার ফ্রান্সের তেল আবিব থেকে প্যারিসগামী একটি বিমান হাইজ্যাক করে ফিলিস্তিনি ও জার্মান উগ্রপন্থীরা। বিমানটিকে প্রথমে লিবিয়া এবং পরবর্তীতে উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটিতে থাকা শতাধিক ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে উগ্রপন্থীরা ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তাদের সহযোগীদের মুক্তির দাবি জানায়। তৎকালীন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইদি আমিনের পরোক্ষ সমর্থনে এই জিম্মি সংকট তৈরি হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ বা ‘অপারেশন এন্টেবে’ নামে এক দুঃসাহসিক ও গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই সফল কমান্ডো অভিযানে প্রায় শতাধিক জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ইসরায়েলি কমান্ডো দলের নেতৃত্বে থাকা লেফট্যান্যান্ট কর্নেল জোনাথন নেতানিয়াহু উগান্ডার সেনার গুলিতে নিহত হন। পুরো অভিযানে তিনিই একমাত্র নিহত ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক ইতিহাসে কিংবদন্তিতুল্য বীরত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, উগান্ডার বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এই মূর্তি উন্মোচন কেবল একজন সামরিক বীরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং বিগত কয়েক দশকে তেল আবিব ও কাম্পালার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তন ও সুদৃঢ়করণের এক স্পষ্ট নিদর্শন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরায়েল। এন্টেবে অভিযানের স্মারক স্থাপন দুই দেশের ঐতিহাসিক তিক্ততা ভুলে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
