গো-হত্যার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: বিচারক তাবাসসুম খানের প্রাণনাশের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা
ভারতের মধ্যপ্রদেশে চাঞ্চল্যকর এক পিটিয়ে হত্যার মামলার রায় প্রদানের পর থেকেই বিচারক তাবাসসুম খান তীব্র রোষানল ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে গো-পাচারের সন্দেহে নাজির আহমদ নামের ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন এই বিচারক। কিন্তু এই সাহসী ও ন্যায়ভিত্তিক রায় ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারকের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে পুঁজি করে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
বিচারক তাবাসসুম খানের বিরুদ্ধে কেবল গালিগালাজই নয়, বরং তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর এমন আক্রমণকে আইনের শাসনের প্রতি বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিচারিক সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, একজন বিচারক যখন নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী রায় প্রদান করেন, তখন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের শিকার হতে হওয়া বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন বিচারক তাবাসসুম খানকে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় এনেছে। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর এই ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমবর্ধমান এই ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
নাজির আহমদ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর থেকে এই মামলাটি সারা দেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ১৪ জন অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। কিন্তু সেই রায় পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এখন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে। বিচারকের ওপর এই আক্রমণের ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা নয়, বরং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি সরাসরি আঘাত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন এই ডিজিটাল বিদ্বেষ ও হুমকির উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আশা করা হচ্ছে যে, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিচারিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
