ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের পদ থেকে সরলেন ম্যাককালাম: অনিশ্চয়তায় বাজবল যুগের ভবিষ্যৎ

ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের পদ থেকে সরলেন ম্যাককালাম: অনিশ্চয়তায় বাজবল যুগের ভবিষ্যৎ

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এক বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ম্যাককালাম এবং অধিনায়ক বেন স্টোকসের যুগলবন্দিতে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট এক নতুন আগ্রাসী রূপ পেয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে ‘বাজবল’ নামে পরিচিতি পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক অবনতি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ হারের পর বোর্ড এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো।

ম্যাককালাম যদিও টেস্ট দলের দায়িত্ব হারাচ্ছেন, তবুও তিনি ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেট তথা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন। ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ থাকলেও, টেস্ট ফরম্যাটে নতুন কৌশল ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ইসিবি। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড জানিয়েছেন, আগামী অ্যাশেজ সিরিজকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। এর আগে গত অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের পরও বোর্ড তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সেই আস্থার জায়গায় বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক নিজের বিদায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান মনোযোগ থাকবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার দিকে। উল্লেখ্য, ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ড ৪৭টি টেস্টের মধ্যে ২৭টিতে জয়লাভ করলেও শেষ ৯ টেস্টের মধ্যে ৭টিতেই হারের মুখ দেখেছে। এই পরিসংখ্যানই মূলত ইসিবিকে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য করেছে।

ইসিবি এখন নতুন টেস্ট কোচ খোঁজার প্রক্রিয়ায় নেমেছে। শোনা যাচ্ছে, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মতো বড় নামগুলো সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আবারও সাদা বল এবং লাল বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোচ নিয়োগের পুরনো মডেলে ফিরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে যে রোমাঞ্চকর ‘বাজবল’ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, তা এখন একটি বড় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচ এই আগ্রাসী ক্রিকেট দর্শনকে ধরে রাখেন নাকি ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন কোনো কৌশলের আমদানি করেন।