বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৪’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই সংশোধনী আইনটির মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা খাতের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত, বিদ্যমান আইনের কিছু অস্পষ্টতা দূর করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন কিছু ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিকায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে এই আইনের মাধ্যমে। বিশেষ করে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই বিলটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সংসদে বিলটি পাসের সময় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এই সংশোধনী পাস হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হবে। এছাড়া, চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রেও এই আইনটি একটি আইনি ভিত্তি প্রদান করবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংশোধনী দেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে নতুন এই আইনটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সব মিলিয়ে, জাতীয় সংসদে এই বিল পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
