দেড় বছরের শিশু সুজানার জীবন বাঁচাতে আকুল আবেদন: জরুরি হৃৎপিণ্ড অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন লাখ লাখ টাকা
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের দেড় বছর বয়সী শিশু সুজানা মনি হৃৎপিণ্ডের জটিল রোগে আক্রান্ত। তার ছোট্ট হৃৎপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র ধরা পড়েছে, যা তার জীবনকে ক্রমশ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে তার অসহায় পরিবার। সুজানার জীবন বাঁচাতে এখন প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের আর্থিক সহায়তা।
সুজানা মনি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সুজন ইসলামের মেয়ে। সুজন ইসলাম একটি ছোট দোকানে সামান্য বেতনে কাজ করেন, যা দিয়ে কোনোমতে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। দিন এনে দিন খাওয়া এই পরিবারটির পক্ষে মেয়ের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কয়েক লাখ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মেয়ের অসুস্থতা এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা। তাদের চোখে মুখে এখন কেবলই হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুজানার হৃৎপিণ্ডে যে ছিদ্র ধরা পড়েছে, তা যদি দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বন্ধ করা না হয়, তবে তার শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, ঘন ঘন সংক্রমণ দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেড় বছর বয়সী একটি শিশুর জন্য এই ধরনের জটিলতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। এটি জন্মগত ত্রুটি, যা অনেক সময় শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং এর একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো অস্ত্রোপচার।
বর্তমানে সুজানা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ দেবব্রত হালদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। দেবব্রত হালদার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শিশুটির হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এই অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।’ তিনি আরও জানান, এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকায় জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেখানে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে।
সুজনের সামান্য আয়ে যেখানে দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে তিন লাখ টাকা জোগাড় করা তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের মতো। পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও হয়তো মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়ে গেছে, কিন্তু তাতেও প্রয়োজনীয় অর্থের সামান্য অংশই মেটানো সম্ভব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তি, বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের প্রতি সুজানার পরিবার সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুজানার জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
সুজানার চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠাতে চাইলে (বিকাশ ও নগদ) 01750454109—এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এই মুহূর্তে প্রতিটি টাকা সুজানার জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। একটি ছোট্ট প্রাণের নিভে যাওয়া রোধ করতে এবং একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আপনার সামান্য সহযোগিতা হতে পারে সুজানার নতুন জীবনের একমাত্র ভরসা। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অসহায় শিশুটিকে নতুন জীবন দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসি।
