বাঁশখালীতে পানিবন্দী মানুষের চরম দুর্ভোগ: জরুরি খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে পাশে প্রথম আলো বন্ধুসভা

বাঁশখালীতে পানিবন্দী মানুষের চরম দুর্ভোগ: জরুরি খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে পাশে প্রথম আলো বন্ধুসভা

চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে শত শত পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশার শীলপাড়া এবং ইউসুফ মাঝির বাড়ির মতো এলাকাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে থই থই করছে বন্যার পানি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পানিবন্দী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা ও প্রথম আলো ট্রাস্ট।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বাহারছড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। অনেক পরিবারের বসতঘরের মেঝে পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। রান্নার চুলা জ্বালাতে না পেরে অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যাকবলিত এই এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছিলেন দুর্গতরা।

এই মানবিক সংকটে সাড়া দিয়ে গত রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবী বাহারছড়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ছুটে যান। প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় তারা শীলপাড়া ও ইউসুফ মাঝির বাড়িসহ বিভিন্ন দুর্গম ও প্লাবিত এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে প্রায় ৫০টি পানিবন্দী পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন। প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, গুড়, মোমবাতি, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন নাপা।

ত্রাণ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মধ্যম ইলশার বাসিন্দা সুকুমার শীল। তিনি জানান, টানা কয়েকদিন ধরে ঘরের ভেতর পানি জমে থাকায় তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। রান্নার কোনো উপায় ছিল না। এই শুকনো খাবার এবং জরুরি ওষুধ পেয়ে তাদের সাময়িক কষ্ট লাঘব হবে। তবে পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত তাদের উৎকণ্ঠা কাটছে না।

can একই ধরনের সংকটের কথা জানান ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাঝির বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ শওকত। তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে তার পুরো ঘর জলমগ্ন। এই অবস্থায় কাজে বের হতে না পারায় পরিবার নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছিলেন তিনি। বন্ধুসভার শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পেয়ে তিনি কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার প্রতিনিধি সাঈদ আল সোহেল এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের সামাজিক ও नैतिक দায়িত্বের অংশ। তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তারা।

বাঁশখালীর এই বন্যা পরিস্থিতি কেবল একটি সাময়িক দুর্যোগ নয়, এটি গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রাকে দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যস্ত করে তোলে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের সামর্থ্যবান নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বানভাসি এই মানুষদের সাহায্যার্থে প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ তহবিলে যে কেউ আর্থিক অনুদান পাঠাতে পারেন। অনুদান পাঠানোর বিবরণ নিম্নরূপ:
হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল
হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪
ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।
এছাড়াও বিকাশের মাধ্যমে সরাসরি অনুদান পাঠানো যাবে এই মার্চেন্ট নম্বরে: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬।