যৌন নিপীড়নের দায়ে ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

যৌন নিপীড়নের দায়ে ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে কলাম লেখক ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়নের দায়ে আদালতের নির্দেশে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছেন। দীর্ঘ তিন বছরের আইনি লড়াই ও নানা টালবাহানার পর, ট্রাম্প ৫০ লাখ ডলারের মূল ক্ষতিপূরণ এবং সুদসহ মোট ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ক্যারলকে প্রদান করেছেন। ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘটনাটির সূত্রপাত ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। লেখক ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন যে, ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। ২০২২ সালে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ক্যারলের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা ক্যারলের দাবি অনুযায়ী তাঁর মানহানি ঘটিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি জুরি সর্বসম্মতভাবে ক্যারলের পক্ষে রায় দেয় এবং ট্রাম্পকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়।

আইনি প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় ট্রাম্পের আইনজীবীরা বারবার এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার চেষ্টা করলেও গত মাসে শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়। এর আগে ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন, যা আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন জব্দ ছিল। বিচারক লুইস ক্যাপলানের নির্দেশনার পর সেই অর্থ এখন ক্যারলের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যারল বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী একজন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর তিনি তাঁর সাবস্ট্যাক ব্লগে এই রায়কে সত্য ও ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই বিজয়কে বিশ্বের প্রতিটি নারীর জন্য অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে আইনি লড়াই এখানেই শেষ নয়। ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানির আরেকটি মামলায় ট্রাম্পকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প আপিল করেছেন, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এই পুরো ঘটনাটি মার্কিন রাজনীতি ও আইন ব্যবস্থায় নারী অধিকার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।