টাঙ্গাইলের সখীপুরে অভাবনীয় সাফল্য: ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল যমজ তিন ভাইবোন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অভাবনীয় সাফল্য: ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল যমজ তিন ভাইবোন

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক বিরল ও আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন যমজ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৫ সালের এই ফলাফলে একযোগে দুই ভাই ও এক বোনের এমন সাফল্যের নজির স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের এই সাফল্যে গর্বিত অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীরা।

বৃত্তিপ্রাপ্ত এই তিন মেধাবী শিক্ষার্থী হলো ফাতেমা আক্তার, আনাস আল মামুন এবং আরাফাত আল মামুন। ১২ বছর বয়সী এই তিন ভাইবোন ঘাটেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী মো. শামীম ও সহকারী শিক্ষক আর্জিনা আক্তারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তারা পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত। তাদের এই অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা এবং পারিবারিকভাবে পাওয়া নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ বড় ভূমিকা রেখেছে। বিদেশে অবস্থান করলেও বাবা মো. শামীম নিয়মিতভাবে তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতেন এবং মানসিকভাবে তাদের সাহস জোগাতেন।

বর্তমানে এই তিন শিক্ষার্থী সখীপুর পিএম পাইলট মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর মোট আটজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে চারজন ট্যালেন্টপুলে এবং চারজন সাধারণ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী জানান, যমজ তিন ভাইবোনের এই সাফল্য পুরো বিদ্যালয়ের জন্য একটি বিশেষ অর্জন। তিনি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, তারা কেবল মেধাবীই নয়, বরং তাদের অধ্যবসায় অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।

সন্তানদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা আর্জিনা আক্তার বলেন, এটি কেবল তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আমাদের পরিবারের জন্য পরম পাওয়া। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ ও দশের সেবায় নিয়োজিত করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা মনে করছেন, যমজ তিন ভাইবোনের এই অভাবনীয় সাফল্য সখীপুরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করবে। ছোটবেলা থেকেই নিয়মানুবর্তিতা এবং সঠিক চর্চা থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব, এই তিন ভাইবোন তা আবারও প্রমাণ করে দেখাল। তাদের এই কৃতিত্ব স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।