কোভিড জালিয়াতির টাকায় বিলাসিতা: নাইট্রাইল গ্লাভস সরবরাহের নামে প্রতারণা চক্রের অঢেল অর্থ ব্যয়

কোভিড জালিয়াতির টাকায় বিলাসিতা: নাইট্রাইল গ্লাভস সরবরাহের নামে প্রতারণা চক্রের অঢেল অর্থ ব্যয়

কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটের সুযোগ নিয়ে এক অভিনব জালিয়াতি চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। এই প্রতারক চক্রটি নিজেকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের প্রধান কৌশল ছিল নাইট্রাইল গ্লাভসের বিশাল চালান সরবরাহের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া। মহামারী চলাকালীন বিশ্বব্যাপী মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই’র যে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে পুঁজি করেই অপরাধীরা তাদের পরিকল্পনা সাজায়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রের সদস্যরা নাইট্রাইল গ্লাভসের লক্ষ লক্ষ বাক্স সরবরাহের কথা বলে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ করেনি। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে নেওয়া বিপুল অর্থ তারা অবৈধ পন্থায় ব্যক্তিগত বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছে। এনসিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে অভিযুক্তরা উচ্চমূল্যের স্পোর্টস কার, দামি ঘড়ি এবং বিলাসপণ্য কিনেছে। মহামারীর এই সংকটাপন্ন সময়ে যখন বিশ্ববাসী জীবন বাঁচাতে মরিয়া ছিল, তখন এই চক্রের এমন কর্মকাণ্ড মানবিক বিপর্যয়ের চরম অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে দেখা গেছে, অপরাধীরা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে তাদের বৈধ ব্যবসার আড়ালে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। তারা নাইট্রাইল গ্লাভস উৎপাদনের কাল্পনিক সক্ষমতার কথা জানিয়ে বড় বড় ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করত। কিন্তু পেমেন্ট পাওয়ার পর থেকেই তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলত। এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এনসিএ জানিয়েছে যে, তাদের জব্দ করা বিলাসপণ্যগুলো আসলে সাধারণ মানুষের করের টাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারীর সময় বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার কারণে এই ধরনের ‘স্ক্যাম’ বা জালিয়াতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছিল। অপরাধীরা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। এনসিএ তাদের চলমান অভিযানের মাধ্যমে এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করেছে এবং ভবিষ্যতে যেন স্বাস্থ্যখাতে এমন জালিয়াতি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।

বর্তমানে এনসিএ এই জালিয়াতির সাথে জড়িত প্রতিটি লেনদেন খতিয়ে দেখছে। প্রতারকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে তাদের কেনা বিলাসবহুল সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সংকটময় মুহূর্তে অপরাধীরা কীভাবে জনসাধারণের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য গড়ার চেষ্টা করে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই প্রতারকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।