স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে সাত ব্রিটিশসহ ১৩ জনের প্রাণহানি: শোকের ছায়া
স্পেনের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১২ জনই বিদেশি নাগরিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় সাতজন ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের দেশগুলোতে দাবানলের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা এবার জনজীবনে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তীব্র দাবদাহ এবং বাতাসের ঝাপটার কারণে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলের বনাঞ্চলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দমকল বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা সম্ভবত আগুনের ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতায় আটকা পড়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে এবং দূতাবাসগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
স্পেনের জরুরি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপক দল মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বনাঞ্চল থেকে লোকালয় পর্যন্ত আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য একাধিক রুট সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দাবানল কবলিত এলাকা থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্প্যানিশ সরকার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণেই দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় একটি ছোট স্ফুলিঙ্গও মুহূর্তের মধ্যে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের রূপ নিচ্ছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্কবার্তা দিলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের এই জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশেরই নয়, বরং পর্যটন এবং জীবনের নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা কমার কোনো পূর্বাভাস নেই, ফলে উদ্ধারকাজ ও আগুন নেভানোর লড়াই আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং পর্যটকদের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
